Blogger & Online Activist
Blogger & Online Activist

শয়তানের পূজা – “ইলুউমিনাতি”

শয়তানবাদ সাধারণভাবে হিব্রু বাইবেল (ও কোরআন) অনুসারে যে মানুষের বিশ্বাসের ওপর আঘাত করে সেই শয়তানের উপাসনা, ভক্তি বা প্রশংসাকে বোঝানো হয়ে থাকে।

 খ্রিষ্টান ধর্ম অনুযায়ী শয়তানকে খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান শত্রু হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আধুনিক শয়তানবাদ প্রথম সবার নজরে আসে ১৯৬৬ সালে চার্চ অব স্যাটান বা “শয়তানের গির্জা” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আধুনিক শয়তানবাদি দলগুলো নানা ভাগে বিভক্ত হলেও প্রধান দু’টি ধারা হচ্ছে আস্তিক ও নাস্তিক। আস্তিক শয়তানবাদি দলগুলো শয়তানকে একজন পৌত্তলিক দেবতা হিসেবে উপাসনা করে। অন্যদিকে নাস্তিক শয়তানবাদিরা নিজেদের নাস্তিক মনে করে এবং শয়তানকে মনে করে মানুষের খারাপ বৈশিষ্ট্যের একটি প্রতীকরূপ হিসাবে। (সোর্চ: উইকিপিডিয়া)

এই শয়তানের পূজা যারা করে থাকে তাদেরকে “ইলুউমিনাতি গ্রুপ” বলা হয়।
অ্যানশেল মসেস রথচাইল্ড ছিলেন ইলিউমিনাতির প্রথম প্রতিষ্ঠাতা।

অ্যানশেলদের পারিবারিক সুদের ব্যাবসা ছিল, ফলে জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন ধনী। পরবর্তীতে এই রথচাইল্ড পরিবার ধীরে ধীরে ইউরোপের ব্যাংকিং ব্যাবসা নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে এবং আরও পরে গোটা পৃথিবীর ব্যাংকিং ব্যাবসার নিয়ন্ত্রন রথচাইল্ড পরিবারের হাতে চলে যায়। ডঃ আডাম্ ওয়াইসফ, ইহুদি ধর্মযাজক এবং বাভারিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইহুদি আইনের অধ্যাপক। তিনি এতো মেধাবি ছিলেন যে মাত্র ২১ বছর বয়সে অধ্যাপক পদ পান।

১৭৭৩ সালে পোপ ১৪তম ক্লেমেন্ট, আডাম্ ওয়াইসফকে জাজ প্রিষ্ট পদ থেকে অপসারণ করেন, কারণ হিসাবে পোপ দেখান যে, ওয়াইসফ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, আর তিনি প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশী ধনী ছিলেন। ১৭৭০ সালের কোন এক সময়ে অ্যানশেল মসেস রথচাইল্ড তার সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ১২ জন বন্ধু সহ আডাম্ ওয়াইসফকে জার্মানির রথচাইল্ড ম্যানসনে আমন্ত্রন জানান এবং একটি সংঘ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। পরবর্তীতে তারা ১৭৭৬ সালের ১ মে “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” নামের একটি সঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন।

ইলিউমিনাতি মানে আলোকিত মানুষ। তারা নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসাবে মনে করে গোটা পৃথিবী পরিচালনা করার উদ্দেশে এই সংঘ গড়ে। আডাম্ ওয়াইসফ বলেন, সংঘের নামটি লুসিফেরিয়ান বা শয়তানি বিদ্যা থেকে প্রাপ্ত। ইলিউমিনাতির ল্যাটিন অর্থ “আলোর ধারক”। সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে বিতাড়িত হওয়ার আগে শয়তানকে লুসিফার এবং আলোর ধারক নামে ডাকা হত। সেখান থেকেই “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” নামটি এসেছে। ১৭৮৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ইলিউমিনাতির ৬০০ জন সদস্য হয় এবং ১৭৮৬ সালের মধ্যে পুরো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং অ্যামেরিকায় অসংখ্য গুপ্ত মন্দির বা লজ তৈরি হয়।

আমেরিকায় ইলিউমিনাতির সদস্য সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। মূলত আমেরিকার তৃতীয় প্রেসিডেন্ট (১৮০১ -১৮০৯) টমাস জেফারসন ইলিউমিনাতিতে যোগ দেওয়ার কারণেই আমেরিকায় ইলিউমিনাতি বিস্তার লাভ করে। অনেক ফ্রিম্যাসনরাও ইলিউমিনাতিতে যোগ দান করেন। আর এভাবেই এ দুই গুপ্ত সংঘ যৌথভাবে বেড়ে উঠতে থাকে। জন অ্যাডামসও ইলিউমিনাতিতে যোগ দেন কিন্তু পরে ইলিউমিনাতির আসল উদ্দেশ্য জানতে পেরে তিনি এর বিরোধিতা করেন। ১৮৩০ সালে ইলিউমিনাতির প্রধান প্রতিষ্ঠাতা ওয়াইসফের মৃত্যুর পর ১৮৩৪ সালে মজিনি নামের এক ইটালিয়ান ব্যক্তিকে “অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতি” এর প্রধান বানান হয়। প্রধানত রথচাইল্ডরা ইলিউমিনাতির পেছনে থেকে সংগঠনটি নিয়ন্ত্রন করতো। আর সামনে অন্য মানুষের নাম প্রচারিত হয় যাদের কে “Front men of the Illuminati” বলা হয়।

মজিনি ছিলেন ইটালির সবচেয়ে প্রভাবশালী একটি পরিবারের সন্তান, এবং ইটালির বিপ্লবী নেতা। ইলিউমিনাতির প্রধান হবার পর তিনি ইটালির প্রভাবশালী পরিবারগুলোকে একত্রিত করে আরেকটি সংঘ তৈরি করেন যাকে আমরা মাফিয়া নামে চিনি। মাফিয়া ছিলো  ‘অর্ডার অফ দি ইলিউমিনাতির’ই একটি অংশ।

‘ইলুউমিনাতি’ দের রয়েছে সেক্রেট সোসাইটি। এই সোসাইটি সেক্রেট ভাবে সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে থাকে।

শয়তানের পূজারী- সেক্রেট সোসাইটি

এদের মূল উদ্দেশ্য শয়তানের পূজা কে প্রোমোট করে নিজ কার্য হাসিল করানো।

বর্তমানে ইলিউমিনাতির বিস্তৃতি আরো ছড়িয়ে পড়েছে। ইলিউমিনাতি এখন পুরো মুভি ইন্ডাস্ট্রি, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করে আর তারা তাদের কার্যকলাপ পরিচালনা করে বিখ্যাত ব্যাক্তিদের কাজে লাগিয়ে। প্রথম দিকে বেশির ভাগই না জেনে এই গুপ্তসংঘে যোগদান করেন। পরে এদের আসল উদ্দেশ্য জানতে পেরে অনেকেই ছেড়ে চলে যান কিন্তু তাদের উপর নেমে আসে মৃত্যুর মতো ভয়ঙ্কর শাস্তি।

‘জাস্টিন বিবার’, ‘জায়ান মালিক’ ও ‘এলন ওয়াকার’ সহ অনেক তারকা স্যাটানিজম প্রমোটের মাধ্যমে উঠতি থেকে বড় তারকা বনে গেছেন।

তারকাদের মাধ্যমে তাদের তাদের কার্যকলাপ প্রমোট করানো হয়।

বিভিন্ন সঙ্গীতের মিউজিক ভিডিও তে ইলুুমিনাতির সাইনিং বিষয় সহ তাদের কার্যলকলাপ দেখানো হয়ে থাকে।

আমরা সাধারন মানুষ, এই জিনিস গুলি দেখে আবেগের বর্শবতী হয়ে বাহবা দিই।
কিন্তু, আমাদের মনে রাখা উচিত, ইলুউমিনাতি একটি অন্ধকার জগৎ।
একে সহসা বাহবা না দিয়ে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 thoughts on “শয়তানের পূজা – “ইলুউমিনাতি””