পরিবেশ ও সমাজব্লগ

ভূরুঙ্গামারীতে অসহনীয় লোডশেডিং

শীতকাল এখনো শেষ হয় নি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ভূরুঙ্গামারী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়ে গেছে ঘনঘন লোডশেডিং। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অফিস-আদালতে মানুষের দুর্ভোগ ছাড়াও বেড়ে গেছে আনুষঙ্গিক ব্যয়।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষকরা প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরচাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আশানুরূপ ফলনও পেয়েছিল কৃষকরা। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।

কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে অনেক কৃষকই জমিতে পানি দিতে পারছেন না। কৃষক ছাড়াও সাধারণ মানুষকে এর দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

২৪ ঘন্টায় ৫-৬ ঘন্টা স্থির ভাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। যখন তখন লোডশেডিং।

গত কয়েক দিন আগে, সারাদেশব্যপী শুরু হয়েছিল ৫ মিনিটে বিদ্যুৎ সংযোগ।
বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক সংযোগ প্রদান করেছিল পল্লী বিদ্যুৎ এর আলোর ফেরিওয়ালা টিম।
কিন্তু, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে গেলেও ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারনে জনসাধারনের প্রাপ্য সুবিধা পাওয়া হচ্ছে না।

“ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ থেকে লাভ কী; যদি প্রাপ্য সুবিধা থেকে মানুষ বঞ্চিত থাকে”

অন্য দিকে, সরকার নির্ভর করছে ভাড়াভিত্তিক ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর। ছোট আকৃতির এসব কেন্দ্রে যেমন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না, তেমনি এর উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। তাছাড়া প্রচুর জ্বালানি তেলের অপচয় হচ্ছে বলেও খবর রয়েছে। এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র টেন্ডার ছাড়া নির্মিত হওয়ার কারণে কোন ধরনের মান যাচাই করা হয়নি। অনেক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে পুরনো ও বাতিল হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি দিয়ে। ফলে নির্মিত হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোরও যথাযথ সংস্কার করা হয়নি। বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এমন কথা শোনা গেলেও সেক্ষেত্রে নেই কোন অগ্রগতি। সরকার শুধু ভাড়াভিত্তিক ও কুইক রেন্টালের ওপর নির্ভর করে থাকায় পরিস্থিতি এখনও রয়ে গেছে সেই তিমিরে।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলা না গেলেও গ্রাহকসেবার উন্নতি না ঘটিয়ে ঘনঘন দাম বাড়ানোর প্রবণতাকে কেউই ভালো চোখে দেখছে না।

উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলা না গেলেও গ্রাহকসেবার উন্নতি না ঘটিয়ে ঘনঘন দাম বাড়ানোর প্রবণতাকে কেউই ভালো চোখে দেখে না।

লেখক: ব্লগার নুর আমিন লেবু

ট্যাগ
আরও দেখুন

নুর আমিন লেবু

This is Nur Amin Lebu. I’m a dreamer, I’m a believer, I’m a doer. I’m well known for my personal skills. I’m a quick learner & self motivated person. I've learned to play guitar by myself without anyone’s help. It’s a tough job for most people. I was born & brought up in Bhurungamari, Kurigram, Rangpur, Bangladesh. I’ve spend my childhood in the midst of greenery in a remote village. My father is a businessman & my mother does what she loves the most, she takes care of us. I’m frank & pretty friendly.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: লেখা কপি করা যাবে না.. Content is protected..
Close
Close