সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

ভারতের চন্দ্র-অভিযান ও দেশের বিটিভি প্রসঙ্গ

By নুর আমিন লেবু

ভারত সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মত চন্দ্রযান-২ চাঁদে প্রেরণ করে।
গত ২৩ জুলাই অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে দ্বিতীয়বারের মত উৎক্ষেপণ হয় চন্দ্রযান-২। এ মহাকাশ যানটি ৪৪ মিটার দীর্ঘ এবং উচ্চতায় ১৫তলা ভবনের সমান। কিন্তু কোন ত্রুটির কারনে চাঁদের মাটিতে পৌছাতে পারে নি চন্দ্রযান-২।

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) জানিয়েছে, চাঁদের মাটিতে চন্দ্রযান ২-এর অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। চাঁদে অবতরণ করতে যাওয়া চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার ‘বিক্রম’কে খুঁজেই পাচ্ছে না ইসরো।

তাদের চন্দ্র অভিযান ব্যর্থ হলেও, তারা চেষ্টা করছে নিজের মত করে। নিজস্ব খরচে নিজস্ব টেকনোলজি এর মাধ্যমে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের অভিযান সফল হলে লাভ হত বিজ্ঞানের। লাভ হত পুরো পৃথিবীর। বড় বড় কোম্পানীর বিভিন্ন সেক্টরে ভারতীয় নাগরিকদের দেখতে পাওয়া যায়। ক্রমেই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ, আমরা বাঙ্গালীরা তাদের নিয়ে ট্রল করছি। হয়ত করছি কিছু কারনে। তাদের ট্রল করার আগে আমাদের নিজেদেরই ভাবা উচিত। আমরা কি করেছি?
ভারতের চন্দ্রাভিজানের মোট বাজেট ছিল ৯৭৮ কোটি রুপি। অথচ আমাদের বিটিভির উন্নয়ন বাজেট দেই ১৮৬৮ কোটি টাকা ! হাস্যকর এই বাজেট ভারতের চন্দ্র অভিযানের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। সাধারণ জনগন এগুলো ভাবে না। ভারতের চন্দ্রযানের ব্যর্থতা নিয়ে পরে আছি। দেশীয় বিচার বিভাগের থেকেও বেশি বিটিভির উন্নয়ন বাজেট। বিটিভির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বাজেট।
ভারতের সাথে আমাদের এখানেই পাথক্য।

বাংলাদেশী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি ক’জনে দেখে? সবজি চাষ, আলুর বাম্পার ফলন টাইপ অনুষ্ঠান দেখা বাংলার মানুষ অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে।

বিটিভির আধুনিকায়নের জন্য নতুন স্টেশনের চাইতেও অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে বেশি নজর দেয়া দরকার।

যে বিশাল বাজেট বিটিভি পেয়েছে, স্টেশন তৈরি ও উন্নয়নের মত কারিগরি খাতে তার পুরোটা খরচ না করে বরং অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নের জন্য খরচ করা যেতে পারতো।

বেসরকারী টেলিভিশন গুলোর অগ্রযাত্রায় ভাটা পড়ে গেছে বিটিভি। নেই ভালো কোন সম্প্রচার। অন্যদিকে বাজেটে বিটিভিরর আধুনিকায়নে ছয়টি বিভাগীয় শহরে পূর্নাঙ্গ স্টেশন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে এ প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হবে।
ছয়টি পূর্ণাঙ্গ স্টেশন করতে খরচ হবে ১৩৯১ কোটি টাকা। এছাড়া বিটিভির কেন্দ্রীয় সম্প্রচার ব্যবস্থা ডিজিটালাইজ করা এবং অটোমেশন করা হবে। এতে প্রায় চারশো কোটি টাকা খরচ হবে।

এতো টাকা বিটিভির উন্নয়নে করে বাংলাদেশের লাভ কী? ভারত অল্প টাকায় অল্প খরচে তাদের বিজ্ঞানিদের চেষ্টায় চন্দ্রযান অভিযান শুরু করেছে। অপরদিকে আমরা বাংলাদেশীরা বিটিভির উন্নয়ন নিয়ে হাজার কোটি টাকা খরচ করছি।

কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না, বাজেটের অর্ধেক টাকাই বাবুরা খেয়ে নিচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ উন্নতি করতে পারবে না।