পরিবেশ ও সমাজপ্রযুক্তি

ব্লু হোয়াইল

ব্লু হোয়েল ( Blue whale ) চ্যালেন্জ
খেললেই নিশ্চিত মৃত্যু।

Cyber Developer BD

আমি এটিকে গেইম বলবো না, কারন এটি একটি চ্যালেন্জ।

“ব্লু হোয়াইল খেলে বাংলাদেশী কিশোরীর মৃত্যু” এই শিরোনামে কয়েকদিন থেকে অনেক নিউজ দেখে আসছি।
নিউজ টা সত্য কি না, এটার দেখে অনেকেরই ভ্রুক্ষেপ নেই।
কেননা, ব্লু হোয়াইলের কোনো ট্যাস্কেই (লেভেল) বলা নাই যে, ফ্যানের সাথে ওরনা প্যাচিয়ে আত্মহত্যা করতে হবে।
তবে, সবার উদ্দেশ্য যে মানুষকে এই চ্যালেন্জের ভয়াবহতা বুঝিয়ে দূরে রাখা, এটিকে সমর্থন জানাই।

আগে জানা দরকার, ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জ কী?

‘ ব্লু হোয়েল ‘ বা Blue whale এর অর্থ নীল তিমি । নীল
তিমির এক ধরনের প্রজাতি আছে যারা নিজেরাই আত্মহত্যা করে।
সেকারনেই এই চ্যালেন্জের নাম রাখা হয়েছে ‘ Blue whale challenge ‘ বা
নীল তিমির চ্যালেন্জ।

গেইম টি কোথায় পাবেন?

অ্যাপ স্টোর , প্লে স্টোর , ইন্টারনেট বা গুগল
কোথাও খুঁজে পাবেন না এই ‘ ব্লু হোয়েল ‘চ্যালেন্জ।
কারন, এই ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জের অফিসিয়াল কোনো App বা Apk ফাইল নেই।

তাহলে কোথায় পাবো? অনেকের মনে এটি আসতে পারা স্বাভাবিক।
অবার অনেকের ধারনা, এটি ডার্ক ওয়েবের গেইম।

আরে ভাই, এক মিনিট থামেন 😊
ব্লু হোয়াইল কোনো গেইম নয়,
এটি একটি চ্যালেন্জ😊
ব্লু হোয়াইল ডার্ক ওয়েবের গেইম নয়।
এটি ডার্ক ওয়েবেও নেই☺

ভাই, তাহলে আছে টা কোথায়? 😁
এবার এক মিনিট মনোযোগ সহাকারে পড়েন।

কয়েক মাস আগে ভারতে এক কিশোর ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জ খেলে উঁচু বিল্ডিং এর জানালা থেকে লাফ দিয়ে সুইসাইড করে।
যেটি ছিল তার ৫০ তম বা ফাইনাল ট্যাস্ক। সে কি তবে, ব্লু হোয়াইল ডার্ক ওয়েব থেকে পেয়েছে?
না ভাই!

ডার্ক ওয়েবে অনেক খুঁজেও আমি ব্লু হোয়াইলের কোনো লিংক পাই নি।
কারন, ব্লু হোয়াইল ডার্ক ওয়েবে নেই।

কিন্তু অনেকেই বলে ব্লু হোয়াইল ডার্ক ওয়েবে আছে, কিন্তু সেটি ভুয়া তথ্য। ব্লু হোয়াইল যে ডার্ক ওয়েবে নেই সেটি এই ভিডিও https://youtu.be/apgFsgcltH8  দেখলে বুঝতে পারবেন।

এ এ এ কেমনে সম্ভব? 😂😂
তাহলে আছে টা কোথায়??😜
ব্লু হোয়াইল আমাদের আশেপাশেই আছে।
ব্যাপারটা অনেকের কাছেই হাস্যকর লাগতেই পারে। তবে, আমার পুরো লেখাটি পড়লে আপনি সব কিছুই সঠিক জানতে পারবেন।

‘ ব্লু হোয়েল ‘ গেমটি ৫০ টি ট্যাস্কে বিভক্ত ।
২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিলো গেমটি , কিন্তু ২০১৫
সালে VK. com নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল
জনপ্রিয়তা পায়।

Vk আবার কি?
vk হচ্ছে রাশিয়ান একটি কমিউনিটি সাইট। যার পুরো নাম Vkontakte।

ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি রেখে ভি.কে তে কেনো এটি?
কারন, এই চ্যালেন্জটির মূল উদ্দেশ্য ছিল হতাশা গ্রস্ত সাইকো দের রাশিয়া থেকে নিশ্চিহৃ করে দেয়া।
এক কথায় আগাছা পরিষ্কার করা।
তাই, রাশিয়ান কমিউনিটি সাইট থেকে এটির যাত্রা শুরু।

আগেই বলেছি, ব্লু হোয়াইলের কোনো এ্যাপ বা লিংক নেই। কিন্তু খেলবো কিভাবে?

ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জটি গ্রহণ করতে হয়, vk.com এর ডেথ গ্রুপের মাধ্যমে।
কিন্তু আপনি কখনোই এখানে VK.com/blue-whale ঢুকতে পারবেন না।
Vkontakte রাশিয়ার একটি পপুলার কমিউনিটি সাইট।

vk.com এ ব্লু হোয়াইল সম্পর্কিত আমার পোস্ট লিংক – https://vk.com/wall445332804_3

ডেথ গ্রুপ কি? কিভাবে কাজ করে?

ডেথ গ্রুপ হচ্ছে ব্লু হোয়াইল পরিচালনাকারী গ্রুপ। যাদের অবস্থান Vkontakte কমিউনিটি সাইটে।
তারা প্রথমেই খুঁজে দেখে যে, কারা কারা মানসিক ভাবে অসুস্থ ও সাইকো টাইপের। অনেকেই আছেন যারা ফেসবুকে পোস্ট করেন “আমার লাইফ বলতে কিচ্ছু নেই, সব হারিয়ে ফেলেছি”।
ডেথ গ্রুপ Vkontakte থেকে এরকম ছেলে মেয়ে দের টার্গেট করে এবং এই টাইপের ছেলে মেয়েদের তাদের ডেথ গ্রুপে জয়েন করিয়ে নেয়।

ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জটি Vkontakte এর প্রাইভেট মেসেজিং সিস্টেমে কিউরেটর দ্বারা পরিচালিত হয় (vk.com এ প্রাইভেট মেসেজিং সিস্টেম রয়েছে।

কিউরেটর হলেন তিনি, যিনি একজন চ্যালেন্জ গ্রহণকারী কে ট্যাস্ক দিবেন এবং তাঁর নির্দেশানুসারেই চ্যালেন্জ গ্রহণকারীকে সব কিছু করতে হবে।
কিন্ত সাধারণত একজন চ্যালেন্জ গ্রহণকারী সরাসরি ব্লু হোয়াইল কিউরেটরের সাথে নিজে থেকে যোগাযোগ করতে কখনোই পারবেন না।
যতক্ষন না পর্যন্ত কিউরেটর আপনাকে নক্ করবে।

চ্যালেন্জ গ্রহন হওয়ার পর, কিউরেটর প্রথমে আপনাকে একটি লিংক সেন্ড করবে। কিউরেটর সেটিকে বলবে এ্যাপ্রোভাল লিংক।
বিশ্বাস করুন, ওই লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই আপনার ফোনটি তারা হ্যাক করে নিয়েছে।
আপনি যখনই কিউরেটরের দেয়া লিংকে ক্লিক করবেন, তখন থেকেই তারা আপনার ফোনের সব এ্যাপস, সিস্টেমের এক্সেস ক্ষমতা পেয়ে যাবে।
যেটি দিয়ে পরে আপনাকে তারা ব্ল্যাকমেইল করবে।
ব্ল্যকমেইল করার কারন, আপনি যেনো কিছুতেই চ্যালেন্জটি থেকে পিছু হটতে না পারেন। আপনি চ্যালেন্জটি থেকে কখনোই পিছু হটতে পারবেন না।

রাশিয়ায় এ গেম খেলে মৃতের সংখ্যা ১৫১ জন , এবং
রাশিয়ার বাইরে মারা গেছে ৫০ জন এর ও বেশি।
সমপ্রতি আগষ্ট মাসে ভারতে ১ জন (কিশোর) সুইসাইড করেছেন, এই চ্যালেন্জটি নিয়ে।

রাশিয়ান দু বোন জুলিয়া ওভা
ও ভের্নিকা ওভা প্রথম এই চ্যালেন্জের আত্মহত্যার শিকার।

এই দুবোনের সরাসরি ছাদ থেকে লাফ দিয়ে ৫০ তম বা ফাইনাল ট্যাস্ক পূরন করার সরাসরি ভিডিও রয়েছে।

এই দুবোনের আত্মহত্যার সরাসরি ভিডিও লিংক –> https://youtu.be/RMlMHWWrQ7Q

মৃত্যুর ঠিক আগে জুলিয়া ওভা vk.com এ নীল তিমির
ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছিলো – The End!

ব্লু হোয়াইল চ্যালেন্জ গ্রহনকারী এবং কিউরেটরের মাঝে প্রথম মেসেজিং কনভারজেশন টি এরকম->

Player- I want to start this challenge.

Administrator- Are you sure? There’s no way back.

Player- Yes. What does that mean? There’s no way back?

Administrator- You can’t leave the game once you begin.

Player- I’m ready.

Administrator- Carry out each task diligently and no one must know about it. When you finish the task, you send me a photo. At the end of the game, you die. Are you ready?

Player- And if I wanna get out?

Administrator- I have all your information, they will come after you.

একবার এটি খেলতে শুরু করলে আপনি
কোনোভাবেই এর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন
না।আপনার মৃত্যু নিশ্চিত।

গেমটির প্রথম কয়েক লেভেল খুবই আকর্ষনীয় ।
– যেমন
রাত ৪ টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠে হরর ছবি দেখা ,
উঁচু ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটাহাঁটি
করা। প্রথম কয়েকটি ট্যাস্ক (লেভেল) সহজ হওয়ায় অনেকেই আগ্রহের সহিত খেলতে থাকেন। কিন্তু ১৩ নাম্বার লেভেল পার হলেই আপনাকে দেয়া হবে কঠিন ট্যাস্ক। তারা ট্যাস্ক (লেভেল) গুলি এমনভাবে সাজিয়েছে যে, প্রতিটি লেভেল কমপ্লিট করার পর আপনি মানসিক ভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরবেন।

তবে মজার বিষয় হচ্ছে, ১৩ নাম্বার ট্যাস্কে (লেভেল) কিউরেটর আপনাকে একটি মিউজিক সেন্ড করবে। সেই মিউজিকটি আপনাকে দিন রাত ২৪ ঘন্টা সবসময় প্রতিটা মূহুর্ত দেখতে হবে, শুনতে হবে।

কিউরেটর যে গানটি ভিকটিমের কাছে সেন্ড করে, সেই গানটির লিংক নিচে দেয়া হলো।

“music of blue whale challenge” video link- https://youtu.be/Y3J9DQIiVfo

১৪ নাম্বার লেভেলে আপনার ঠোঁট কাটতে হবে, তারপর ঠোঁট কাটার একটি পিক কিউরেটরের কাছে সেন্ড করতে হবে।

১৬ নাম্বার লেভেলে কিউরেটর কে এমন কিছু করে দেখাতে হবে যেনো আপনি আপনার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কে আঘাত দেন। যেমন, হাতে সুই ঢুকিয়ে দেয়া, পা ছুরি দিয়ে ক্ষত করা ইত্যাদি। এক কথায়- নিজেকে পেইনের মধ্যে রাখা।

১৭ নাম্বার লেভেলে উচু ছাদের কিনারা দিয়ে হাটতে হবে যে কোনো সময়।

১৮ নাম্বারে ব্রিজের উপর উঠে হাটতে হবে।

২১ নাম্বার ট্যাস্কে স্কাইপে কিউরেটরের সাথে ভিডিও কলিং এ কথা বলতে হয়।

২৪ নাম্বারে একটি সেক্রেট ট্যাস্ক রয়েছে।

২৬ নাম্বারে কিউরেটর আপনার মৃত্যুর তারিখ বলে দিবে, অর্থাৎ কিউরেটর একটি তারিখ ও সময় বলবে যেদিন আপনাকে সুইসাইড করতে হবে। আপনি রাজী কি না, সেটি সমপর্কে সত্যায়িত করা হবে।

৩০-৪৯ ট্যাস্ক লেভেলে- প্রতিরাত ৪ টা ২০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠতে হবে, হরর ভিডিও দেখতে হবে, ব্লু হোয়াইলের ভিডিও গান প্রতিদিনই দেখতে হবে, আপনার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটতে হবে।

৩০-৪৯ তম ট্যাস্কে মোটামুটি এগুলোই রিপিট করা হয়।

শেষ ট্যাস্ক বা লেভেলে আপনাকে উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালা দিয়ে ঝাপ দিতে হবে।
তাতেই নিশ্চিত আপনার মৃত্যু।
সুন্দর একটি জীবনকে হঠাৎ অখেয়াল বশত হারিয়ে শেষ করে দেয়া নিছক বোকামী ছাড়া অন্য কিছু নয়।
বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব সবাই আপনাকে কতো ভালবাসে।
আপনি তাদের কে কখনোই কষ্ট দিতে পারেন না।
তাদের মনে কখনোই আঘাত দিতে পারেন না।

প্রত্যেক প্রতিকূলতার মাঝেই বড় রকমের বীজ লুকিয়ে থাকে। সুতরাং, হতাশাগ্রস্ত হলে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখুন।

লেখাটি পড়ার পর যারা ভাবতেছো, পেয়ে গেছি। আজ থেকেই ডেথ গ্রুপ খোজা শুরু করে দেবো। তাদের জন্য এক বালতি সমবেদনা। কারন,
ব্লু হোয়াইলের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ বুকেদিন ও সমপ্রতি মেইন কিউরেটর (মেয়ে) পুলিশের কাছে ধরা পরার পর থেকে কিউরেটর রা নড়েচড়ে বসেছে।
তাই আপনি তাদের কে কোথাও খুঁজে পাবেন না। প্রথমেই বলেছি, আপনারা নিজে থেকে কখনোই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
যতক্ষন না পর্যন্ত তারা আপনার সাথে যোগাযোগ করবে, ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা তাদের হাজার খুঁজেও পাবেন না।

সুতরাং, এই চ্যালেন্জ গ্রহণকরার ইচ্ছা বাদ দিয়ে নিজের জীবন কে উপভোগ করুন। একাকী লাগলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, মন ভালো হয়ে যাবে।
কখনো বসে থাকবেন না।
কাজের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
মুসলিম হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ুন।

লেখাটি সর্বপ্রথম আমার ব্লগে http://www.somewhereinblog.net/blog/Lebu/30214246 প্রকাশ করা হয়েছে।

ভালো থাকবেন 🙂
খোদা হাফেজ।

ট্যাগ
আরও দেখুন

নুর আমিন লেবু

This is Nur Amin Lebu. I’m a dreamer, I’m a believer, I’m a doer. I’m well known for my personal skills. I’m a quick learner & self motivated person. I've learned to play guitar by myself without anyone’s help. It’s a tough job for most people. I was born & brought up in Bhurungamari, Kurigram, Rangpur, Bangladesh. I’ve spend my childhood in the midst of greenery in a remote village. My father is a businessman & my mother does what she loves the most, she takes care of us. I’m frank & pretty friendly.

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: লেখা কপি করা যাবে না.. Content is protected..
Close
Close